মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৭ মার্চ ২০১৫

বাংলাদেশে আবাসন

 

খাদ্য ও বস্ত্রের পর মানুষের বড় প্রয়োজন হলো আশ্রয়ের বা বাসস্থানের যা প্রতিটি মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা। গৃহায়ন বলতে মানুষের বসবাসের জন্য নানা সুবিধাদি সম্বলিত বাস্ত্তভূমির উন্নয়নকে বোঝানো হয়। জাতিসংঘের গৃহায়ন নীতিমালা অনুযায়ী উন্নয়নশীল দেশসমূহের জন্য গৃহায়ন ধারনাটি শুধুমাত্র বাসস্থানের ভৌত কাঠামোকে বোঝায় না, একই সাথে সকল ধরনের প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবারও উপস্থিতি আবশ্যক। বাসস্থান মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার। প্রাচীনকাল থেকেই বাংলাদেশে মানব বসতি বা আবাসনের প্রমাণ পাওয়া যায়। তখন থেকে পরিবেশ, অর্থ ও সামাজিক চাহিদা এবং এর সাথে ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ুগত বিষয়াবলী দ্বারা প্রভাবিত হয়ে গৃহের শৈলী ও ধরণ পরিবর্তিত হয়ে এসেছে।

 

বাংলাদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী গ্রামে বসবাস করে এবং বাকিরা ছোট-বড় শহরে বাস করে এবং যার মধ্যে ঢাকার মত সুবিশাল মেগাসিটিও রয়েছে। তাই বাংলদেশের গৃহায়ন সম্পর্কে আলোচনা করতে হলে গ্রামীণ ও নগর, দুটি ভৌগোলিক অবস্থাই বিবেচনা করা আবশ্যক।

 

মানব  জাতি যুগ যুগ ধরে আবাসন খাতে বিনিয়োগ করে আসছে এবং বংশ  পরম্পরায় উক্ত বিনিয়োগের সুফল ভোগ করে আসছে। আবাসন শুধু একান্তেই বসবাসের সুযোগ করে দেয়না বরং সুস্বাস্থ্য ও স্বাচ্ছন্দ প্রদান করে কর্ম ও উপার্জনের ভিত্তি রচনা করতে সহায়তা প্রদান করে থাকে। এক কথায় আবাসন সামাজিক স্থিতশীলতায় অর্থনৈতিক উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে আসছে। আবাসন খাতকে পরিবারের সর্বোচ্চ একক বিনিয়োগ খাত হিসাবেও চিহ্নিত করা হয়েছে।

 

গৃহের ধরণ :  বাংলাদেশে গ্রামীণ ও শহুরে দু’ধরনের গৃহ রয়েছে। গ্রামীণ বসত বাটী বা বাড়ির একটি উপাদান গৃহ এবং এর অন্যান্য উপাদানগুলি হচ্ছে উঠান (বা আঙ্গিনা), গৃহের চারপাশের গাছপালা ও একটি বা দুটি পুকুর। গ্রামীণ বসতি আবার একটি গ্রামের অংশ যেখানে বসতির বিন্যাস কখনো রৈখিক বা পুঞ্জীভূত। সাংস্কৃতিক ভূগোলবিদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী প্রধানত সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক প্রভাবের উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের গ্রামীণ গৃহগুলিকে শ্রেণি বিন্যাস করেছেন। তাঁর মতে গ্রামীণগৃহের ধরণগুলি হলাে:

 

চৌশালা গৃহ যেখানে উঠান/ আঙ্গিনাকে কেন্দ্র করে চারপাশে চারটি গৃহ বা ভিটা থাকে, বৃতি গৃহ যা সম্পূর্ণভাবে বাঁশ, মাটি অথবা অন্যকোন উপাদানের তৈরি ও দেয়াল দিয়ে ঘেরা থাকে। আটটি ছাঁদ বিশিষ্ট আটচালা গৃহ যার চারটি ঘরের চাল মূল কাঠামোর উপর এবং বাকি চারটি ঘরের সাথে সংযুক্ত বারান্দার উপরে থাকে। পোস্তা গৃহ যা উঁচু ভিটার উপর তৈরি, অনেক সময় ধনী পরিবারের ক্ষেত্রে ভিটাটি পাকা হতে দেখা যায়; দিশালা নন্দ গৃহ যেখানে আঙ্গিনার দু’পাশে দুটি ঘর থাকে। সুস্থিতা বা সুষম ঘর যার চারপাশে বারান্দা থাকে; এবং উপজাতি বা আদিবাসী গৃহ। চৌশালা গৃহ বাংলাদেশের প্রায় সব এলাকায় দেখা যায় এবং শহর এলাকাতেও এ ধরনের গৃহের জনপ্রিয়তা দেখা যায়। বর্তমান সময়ে বৃতি, আটচালা, দ্বিশালা, সুস্থিতা এবং পোস্তা গৃহগুলি খুব একটা দেখা যায় না। বৃতি গৃহ শুধুমাত্র উত্তর দিনাজপুর, আটচালা সাতক্ষীরা, দ্বিশালা সিলেট, সুস্থিতা শীতাকুন্ডু ও পোস্তা মিরসরাই অঞ্চলে দেখা যায়। আদিবাসী গৃহগুলি প্রধানত পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকাসহ কয়েকটি জেলায় দেখা যায় যেখানে আদিবাসীরা বাস করে। তাদের গৃহগুলির গঠন ও ব্যবহারের দিক থেকে স্বতন্ত্র এবং প্রধানত কাঠ ও বাঁশের তৈরি, অনেক সময় উচুঁ মঞ্চ/প্লাটফর্মের উপরে থাকে। সাঁওতালরা বাংলাদেশের আদিবাশি, তাদের ঘরগুলিকে মূলত আদিবাসী গৃহ বলা হয় যা কাদা মাটির তৈরি। বর্তমানে গ্রামীণ এলাকার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও জনপ্রিয় গৃহের ধরণ হচ্ছে দোচালা ঘর যার ছাদে দুটি টিনের ঢালু চালা থাকে এবং দেয়াল সাধারণত বাঁশের তৈরি। এছাড়া সম্পূর্ণ টিনের তৈরি দোচালা, চৌচালা এবং আধাপাকা ঘরও উল্লেখযোগ্য পরিমানে লক্ষণীয়।

 

অতি প্রাচীনকাল থেকে রাজা, মহারাজা, জমিদার এবং বিত্তশালী ব্যক্তিবর্গ শহর উন্নয়নের মাধ্যমে নগর আবাসনের সূচনা ঘটান। উপনিবেশিক কাল থেকেই উচ্চবিত্ত বাঙ্গালিদের মধ্যে নগরে বসবাসের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। ঊনবিংশ শতাব্দীতে ইউরোপীয় স্থাপত্য নকশার অনুকরণে গৃহায়ন নির্মাণ উচ্চবিত্তের জন্য ফ্যাশনে পরিণত হয়। সরকারি এবং বেসরকারি খাতে পাকিস্তান আমলে উচ্চ ও মধ্যবিত্তের আবাসনের জন্য আধুনিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। সরকার বৃহৎ এলাকাজুড়ে ভূমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে ঢাকা ও অন্যান্য শহরে পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা এবং নতুন উপশহর তৈরি করেন। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য অধিক ঘনত্বের একতলা পাকা ‘নিউক্লিয়ার’ বা ছোট গৃহের আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করা হয় যার একটি বড় উদাহরণ ঢাকার মিরপুর। দরিদ্র বসতিতে (বৈধ ও অবৈধ বস্তি) গ্রামীণ গৃহের মত কাঁচা ও আধাপাকা কাঠামো লক্ষণীয়।

 

আশির দশকে অ্যাপার্টমেন্ট ধরনের বিশেষ আবাসনের সূচনা হয় যেগুলি ছয়তলা থেকে কোন কোন ক্ষেত্রে লিফ্ট বিশিষ্ট ১০-২০ তলা পর্যন্ত করা হয়। ব্যক্তি পর্যায়ে বিত্তশালীদের বাড়িগুলি ছিল একতলা বাংলো শ্রেণির, অথবা দুইতলা ‘ডুপ্লেক্স’ এবং মাঝে মাঝে তিনতলা ‘ট্রিপ্লেক্স’ ধরনের। এসব ধরনের বাড়ির সংখ্যা ছিল খুবই সীমিত। মেঝের আয়তন স্বল্প মূল্যের ইউনিটের ক্ষেত্রে ৩০০ বর্গফুটেরও কম দেখা যায় এবং এটা বিলাসবহুল বাড়ির ক্ষেত্রে আবার ৩০০০ বর্গফুটের অধিকও দেখা যায়।

 

গৃহায়নের উপাদান :  মূলত এক ধরনের পণ্য বা বস্ত্ত যা অনেকগুলি উপাদানের সমষ্টিগত অবস্থা। উপাদানসমূহ হলো ভূমি; অবকাঠামো ও উপযোগী সেবাসমূহ (utility); ভবন নির্মাণ উপকরণ; নকশা ও প্রযুক্তি; অর্থায়ন; এবং শ্রমিক, ব্যবস্থাপনা ও উদ্যোগ।

 

ভূমি  গৃহায়নের মৌলিক ও প্রধান উপকরণ। ভূমির মালিকানাও গৃহায়নের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক যা সরকারি, বেসরকারি/ ব্যক্তি প