যোগাযোগঃ
২২, পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ৮৮-০২-৯৫৬১৩১৫,
৮৮-০২-৯৫৬২৭৬৭
ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৯৫৬১৩২৪
ই-মেইলঃ bhbfc@bangla.net

গৃহ নির্মান ঋণ সংক্রান্ত নিয়মাবলী

গৃহ নির্মাণ ঋণ পেতে হলে কি কি বিষয়ের প্রতি লক্ষ রাখতে হবে এবং কোন ধরণের দলিলপত্র দাখিল করতে হবে, তা নিম্নে বর্ণনা করা হলো। প্রয়োজনবোধে বিএইচ.বি.এফ.সি এর সদর দফতর ঋণ বিভাগে বা সংশ্লিষ্ট জোনাল ওরিজিওনাল অফিস হতে ঋণ বিষয়ে পরামর্শ গ্রহণ করা যেতে পারে। কর্পোরেশন এর ঋণ পরিশোধ নিয়মাবলী অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কিছুটা ভিন্নতর বিধায় ঋণ গ্রহণের পুর্বে সকল গ্রহীতাকে কিস্তি, সুদ, ঋণপরিশোধের পদ্ধতি ইত্যাদি সমঙ্র্কে পূর্নাঙ্গঁ তথ্য জেনে নিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

২.০ ঋণের প্রকারঃ পুর্বে কর্পোরেশন হতে মাত্র দু\'ধরনের ঋণ দেয়া হত, যেমন সাধারন এবং বহুতল বিলিষ্ট বাড়ীর জন্য ঋণ। বর্তমানে কর্পোরেশন নিম্নোক্ত ৭ প্রকার গৃহ নির্মান ঋণ দিয়ে থাকেঃ

১। সাধারণ ঋণঃ একক বা স্বামী ও স্ত্রীর নামে প্রদত্ত ঋণ
২। গ্রুপ ঋণঃ একাধিক ব্যক্তির মালিকানাধীন প্লটে ফ্ল্যাট ভিত্তিক গ্রুপ ঋণ।
৩। ফ্ল্যাট / এপার্টমেন্ট ঋণ নির্মীয়মান ফ্ল্যাট / এপার্টমেন্ট কেনার জন্য ঋণ।
৪। বর্ধিত ঋণঃ অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী মুল ঋণে নির্মিত অংশ বাদে নকশার
অনির্মিত অংশ নির্মাণের জন্য প্রদত্ত ঋণ।
৫। সেমি পাকা বাড়ীর জন্য ঋণঃ ঢাকা ও চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা ও বিভাগীয় সদরব্যতীত অন্যান্য জেলা, উপজেলা সদর এবং তৎসংলগ্ন সম্ভাবনাময় গ্রোথ সেন্টার/ বাণিজ্যিকস্থান সমুহে সেমি পাকাবাড়ীর নির্মাণের জন্য প্রদত্ত ঋণ।
৬। মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত ফ্ল্যাট ঋণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণীর জন্য ৫৫০ হতে ১০০০বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাট নির্মাণ /ক্রয় ও গ্রুপ ভিত্তিক ফ্ল্যাট নির্মাণের জন্য প্রদত্ত ঋণ।
৭। স্বল্প মেয়াদী বিশেষ ঋণঃ অনুমোদিত নক্শা মোতাবেক বাড়ী / দালানের নির্মাণ কাজ আরম্ভ করে নির্মাণ কাজ শেষ/ ফিনিশিং পর্যায়ে এনেছেন শুধুমাত্র তাদের দালানের অসমপুর্ণ নির্মাণ কাজ সমপুর্ণ করার জন্য প্রদত্ত ঋণ।

৩.০ ঋণ কার্যক্রমের এলাকাঃ কর্পোরেশন বর্তমানে ঢাকা ও চট্রগ্রাম মহানগরীসহ দেশের সকল বিভাগীয় , জেলাসদর, উপজেলা সদর ও সম্ভাবনাময় গ্রোথ সেন্টার/ বানিজ্যিক স্থান সমুহে কর্পোরেশনের ঋণ প্রদান কার্যক্রম চালু রয়েছে।

৪.০ বাড়ীর আবৃতাংশ ও ঋণের সিলিং: জমির মুল্য, অবস্থান, পারিপারশিকতা, নির্মিতব্য ভবনের গুনগত মান এবং সম্ভাব্য বাড়ীভাড়ার ভিত্তিতে কর্পোরেশন এলাকা ভেদে নির্মিতব্য ভবনের/ কাঠামোর আবৃতাংশ বিবেচনায় ঋণের সিলিং নির্ধারণ করেছে।

৫.০ গৃহ নির্মাণ ঋণ সংক্রানত নিয়মাবলীঃ
১। ঢাকা চট্রগ্রাম মহানগরী এলাকায় সরকারী/বেসরকারী প্লট সমুহে ইমারত নির্মাণের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়ে থাকে।
২। সিলেট বিভাগীয় সদর ও মৌলভীবাজার জেলা সদর/ পৌরসভা এলাকায় ৪০.০০
লক্ষ টাকা এবং তদসংলগ্ন সম্ভবনাময় গ্রোথ সেন্টার/ বাণিজ্যিক স্থান সমুহে সর্বোচ্চ ৩৫.০০ লক্ষ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়ে থাকে।
৩। নারায়নগঞ্জ, গাজীপুর, টংগীও সাভার পৌরসভা এলাকায় ৪০.০০ লক্ষ টাকা এবং
তদসংলগ্ন সম্ভবনাময় গ্রোথ- সেন্টার/ বাণিজ্যিক স্থান সমুহে সর্বোচ্চ ৩৫.০০ লক্ষ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়ে থাকে।
৪। বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৪০.০০ লক্ষ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়ে থাকে।
৫। খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগীয় সদর এবং পুরাতন জেলা সদরে ( পটুয়াখালী
ও জামালপুর জেলা সদর ব্যতীত ) ৩০.০০ লক্ষ টাকা এবং তদসংলগ্ন সম্ভাবনাময়
গ্রোথ- সেন্টার/ বাণিজ্যিক স্থান সমুহে সর্বোচ্চ ২৫.০০ লক্ষ টাকা ঋণ প্রদান করা
হয়ে থাকে।
৬। নতুন জেলা সদর ( নারায়নগঞ্জ ,গাজীপুর, মৌলভীবাজার জেলা সদর ) এবং
জামালপুর ও পটুয়াখালী জেলা সদর, শ্রীমঙ্গঁল ও কুলাউড়া পৌরসভা এবং চৌমুহনী পৌরসভা এলাকায় ২৫.০০ লক্ষ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়ে থাকে।
৭। দেশের সকল উপজেলা সদর ও তদসংলগ্ন গ্রোথ-সেন্টার/ বানিজ্যিক স্থান সমুহে সর্বোচ্চ ২০.০০ লক্ষ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়ে থাকে।
৮। ঢাকা ও চট্রগ্রাম মহানগরী ও বিভাগীয় সদর ব্যতীত অন্যান্য সকল জেলা সদর ও তদসংলগ্ন উপজেলা সদর এবং সম্ভাবনাময় গ্রোথ- সেন্টার/ বাণিজ্যিক স্থান সমুহে সেমিপাকা বাড়ী নির্মাণের জন্য সর্বোচ্চ ৫.০০ লক্ষ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়ে থাকে।

৬.০ গ্রুপ ঋণের ক্ষেত্রেঃ
১। কতিপয় শর্ত সাপেক্ষে একাধিক ব্যক্তি মালিকানাধীন প্লটে ফ্যাটভিত্তিক গ্রুপ ঋণ দেয়া হয়ে থাকে। এ ধরণের ঋণের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর সংখ্যার কোন সীমাবদ্ধতা নেই।
২। ঢাকা ও চট্রগ্রাম মহানগরী এলাকায় এক বা একাধিক ইউনিট নির্মাণের জন্য সর্বোচ্চ জন প্রতি ৫০.০০ লক্ষ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়ে থাকে।
৩। সিলেট সিটি কর্পোরেশনএলাকায় ৪০.০০ লক্ষ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়ে থাকে।
৪। অন্যান্য সকল বিভাগীয়, পুরাতন ও নতুন জেলা সদর এবং টংগী, সাভার  পৌরসভা এলাকায় ৩০.০০ লক্ষ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়ে থাকে।
৫। অধিক সংখ্যক পরিবারকে ঋণ প্রদান করা কর্পোরেশনের উদ্দেশ্য।একই পরিবারের ব্যক্তিগতভাবে উপার্জনশীল যে কোন সংখ্যক সদস্যকে গ্রুপ ঋণ প্রদান/ বিবেচনা করা হয়ে থাকে।

৭.০ ঋণ পরিশোধ মেয়াদঃ
সুদ, আসল ও নির্মাণকালীন সুদের কিস্তিসহ নির্ধারিত মাসিক কিস্তিতে ১৫ ( সাধারণ ঋণের ক্ষেত্রে) বছর বা ১৮০টি এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত ঋণ স্কীমে ২০ বছর বা ২৪০টি এবং স্বল্প মেয়াদী বিশেষ ঋণের বেলায় ৫ বছর বা ৬০টি নির্ধারিত সমান মাসিক মাসিক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধযোগ্য।

৮.০ সাইড স্পেস
১। ঋণের জন্য প্রসতাবিত ভবনের চারিদিকে সাইড স্পেস অনুমোদিত নক্শা মোতাবেক বাসতবে ঠিক না থাকলে ঋণ বিবেচনা করা যাবে না।
২। ভবিষ্যতে রাস্তা সম্প্রসারনের জন্য অনুমোদিত নক্শায় রাস্তার দুইপাশে বা একপাশে ক্ষতিগ্রস্থ সমর্পিত / প্রশস্তকরণ দেখিয়ে নক্শা অনুমোদন করা থাকলে ঐ সমস্ত নক্শার ভিত্তিত ঋণ বিবেচনা করা যাবে।
৩। একই পরিবারের মধ্যে একাধিক ঋণ প্রদান করা হবে না(পরিবার বলতে স্বামী ও স্ত্রী এবং তাদের উপর নির্ভরশীল ছেলে মেয়েদের বোঝাবে)। শুধুমাত্র পরিবারের একজন সদস্যের নামে ঋণ আবেদন করা যাবে। কর্পোরেশন থেকে পুর্বে কোন ঋণ নিয়ে থাকলে পুর্বের ঋণ সমপুর্ণ পরিশোধ না হওয়া পর্যনত ঐ পরিবারের অন্য কোন সদস্য ঋণের আবেদন করতে পারবে না। স্বামী স্ত্রীর ক্ষেত্রে একক নামে বা যৌথ নামে শুধুমাত্র একটি ঋণ দেয়া হবে। যৌথ নামে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে যে কোন একজনের নিজস্ব আয় থাকলে চলবে। সাধারণত: নাবালকের নামে কোন ঋণ মঞ্জুর করা যাবে না। তবে নাবালকের পক্ষে স্বাভাবিক বা আইনগত অভিভাবক জামিনদার হলে এবং অভিভাবক হিসাবে নাবালকের পক্ষে সকল দলিলপত্রে স্বাক্ষর করলে ঋণ দেয়া যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে অভিভাবককে আলাদা ঋণ দেয়া হবে না।
৪। একই শহরে যাদের বসবাসের নিজস্ব বাড়ী আছে তাদের নতুন বাড়ী নির্মানের জন্য ঋণ বিবেচনা করা হবে না। তবে প্রসতাবিত বন্ধকী জমিতে অনুমোদিত নক্শা অনুযায়ী ইতিমধ্যে নির্মিত বাড়ীর ( যদি থাকে ) অবশিষ্ট অংশ( ভার্টিক্যালী, অথবা হরিজেন্টালী ) নির্মাণ / সমপ্রসারনের জন্য প্রচলিত বিবি মোতাবেক ঋণ বিবেচনা করা যাবে এবং ঋণ সুপারিশ করার সময় নির্মিত অংশের সম্ভাব্য ভাড়ার ৯০% টাকাকে পরিশোধযোগ্য আয় হিসাবে গ্রহণ করে ঋণের প্রাপ্যতা নিরুপন করা হবে।

৯.০ ফরমাল সাধারণ ঋণ আবেদন পত্র দাখিলের নিয়মাবলীঃ
১। ঋণ আবেদনকারীকে নির্ধারিত ফরমে ( প্রতিটি সাধারণ ঋণ, আবেদন ফরম ৫০০/- টাকা মুল্যে সংশ্লিষ্ট জোনাল ও রিজিওনাল অফিস হতে পাওয়া যায়) নিম্ন
বর্ণিত দলিলপত্রসহ সংশ্লিষ্ট জোনাল ও রিজিওনাল অফিসে আবেদন দাখিল করতে করতে হবে। বেসরকারী / ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির ক্ষেত্রে নিম্নরূপ দলিল পত্র দাখিল করতে হবেঃ
২। আবেদনকারীর মুল মালিকানা দলিল ( সাফ-কবলা/ দানপত্র / বন্টননামা) এবং উক্ত দলিল এর একটি ফটোকপি ১ম শ্রেণীর গেজেটেড অফিসার কতৃক সত্যায়িত করে দাখিল করতে হবে। মুল দলিল রেজিঃ অফিস থেকে আবেদনের পুর্বে পাওয়া না গেলে দলিল উঠানোর মুল রশিদ ও দলিল তোলার ফি বাবদ ২০০/- টাকা এবং দলিলের একখানা সার্টিফাইড কপি দাখিল করতে হবে।
৩। সি.এস, এস.এ ও আর.এস খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি দাখিল করতে হবে।
৪। নামজারী খতিয়ানসহ ডি.সি.আর ও হালসনের নাগাদ খাজনার রশিদ দাখিল করতে হবে।
৫। এস.এ / আর.এস রেকর্ডীয় মালিক থেকে স্বত্বের ধারাবাহিকতা প্রমাণের জন্য চেইন অব ডকুমেন্টস এর সত্যায়িত ফটোকপি দাখিল করতে হবে।
৬। জেলা রেজিষ্ট্রারের অফিস থেকে ১২(বার) বছরের তল্লাসীসহ নির্দায় সার্টিফিকেট (এন.ই.সি ) সংগ্রহ করে দাখিল করতে হবে।
৭। যথাযথ কর্তৃপরে কাছ থেকে নির্মিতব্য বাড়ীর নক্শার অনুমোদন পত্রসহ এক কপি অনুমোদিত নক্শা এবং একটি অতিরিক্ত কপি দাখিল করতে হবে।
৮। মাটির ভারবহন ক্ষমতা জানার জন্য সংশ্লিষ্ট প্লটের সয়েল টেষ্ট রিপোর্ট দাখিল করতে হবে। সয়েল টেষ্ট রিপোর্টে সংশ্লিষ্ট স্নাতক প্রকৌশলী ( বি.এস.সি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার) এর স্বাক্ষর থাকতে হবে। দেশের অন্যান্য এলাকার বেলায় সয়েলের বিয়ারিং ক্যাপাসিট সম্পর্কে ৫ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বি.এস.সি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এর সার্টিফিকেট লাগবে।
৯। (ক) বহুতল বাড়ীর জন্য ২ কপি ষ্ট্রাকচারাল ডিজাইন ( ভিত্তি/ বীম/ কলাম / ছাদ/ সিড়ি ইত্যাদি ) ও ভারবহন ক্ষমতার সার্টিফিকেট কমপক্ষে ৫ (পাঁচ) বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন গ্রাজুয়েট সিভিল ইঞ্জিনিয়ার/ নির্বাহী প্রকৌশলী/ প্রকৌশল পরামর্শ দাতা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ইসুকৃত হতে হবে।
(খ) ৭ তলা ও তদুর্ধ ভবনের বেলায় ১০ বছরের অভিজ্ঞতা সমপন্ন গ্রাজুয়েট সিভিল ইঞ্জিনিয়ার/ নির্বাহী প্রকৌশলী/ প্রকৌশল পরামর্শ দাতা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ভারবহন সনদ নিতে হবে। ঢাকা ও চট্রগ্রাম মহানগরীর বেলায় বিএনবিসি অনুযায়ী ভূমিকমপ প্রতিরোধী সনদ দিতে ( কর্পোরেশনের নির্ধারিত ছকে )।
১০। অত্র সংস্থা কর্তৃক নির্মাণ স্থল পরিদর্শনের সুবিধার্থে প্রসতাবিত নির্মাণ স্থানে যাওয়ার রাসতার বিবরণসহ আশে পাশের গুরুত্বপুর্ণ স্থাপনার নাম উল্লেখ পুর্বক ট্রেসিং পেপারে ২ কপি হাতে আঁকা রুট ম্যাপ ( আবেদনকারীর স্বাক্ষর সম্বলিত ) দিতে হবে ।
১১। ২ কপি সত্যায়িত স্বাক্ষর এবং ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের সত্যায়িত ছবি দাখিল করতে হবে।
১২। দরখাস্ত ফি জমা প্রদানের রশিদ ( সাধারণ ঋণের ক্ষেত্রে প্রতি হাজারে ৩/ টাকা ও ফ্ল্যাট মানের ক্ষেত্রে ৫ টাকা হারে সোনালী ব্যাংকের নির্দিষ্ট শাখায় এবং বিএইচবিএফসি ভবনের নীচতলায় জনতা ব্যাংকে কর্পোরেশনের নির্ধারিত ফর্মে ফিসের টাকা জমা প্রদান করা যায়। এ ছাড়াও কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট জোনাল ও রিজিওনাল অফিসে জমা করা যায়।
১৩। আবেদনকারীর আয়ের প্রমাণপত্র ও চাকুরী ক্ষেত্রে ঋণ আবেদন ফর্মের নির্দিষ্ট পাতায় বেতন সনদ এবং ব্যবসার ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স ও আয় সমপর্কে হলফনামা । আয়কর পরিশোধযোগ্য আয় হলে আই.টি.এন নম্বরসহ আয়কর প্রত্যায়নপত্র / আয়করের জাবেদা নকল দিতে হবে। আবেদনকারী বিদেশে কর্মরত থাকলে তার আবেদনপত্র, ছবি ও আয়ের সনদপত্র সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দুতাবাস কর্তৃক সত্যায়ন পুর্বক ঢাকাস্থ পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় হতে প্রতিস্বাক্ষরিত/ প্রমানিকরন করিয়ে জমা দিতে হবে।
১৪। দরখাসতকারীর নিজস্ব আয় না থাকলে স্বামী/ ন্ত্রী পিতা / মাতা / ছেলে / মেয়েকে জামিনদার করা যায়। এরূপ ক্ষেত্রে কর্পোরেশনের নির্ধারিত জামিনদারের প্রশ্নপত্র ফরম পুরন করে দাখিল করতে করতে হবে এবং জামিনদারের আয়ের স্বপক্ষে দালিলিক প্রমান দিতে হবে।
১৫। দরখাসত জমা দেয়ার পরপরই প্রসতাবিত বন্ধকী জমির পরিচয়সহ সাইটে নামফলক লাগাতে হবে।
১৬। অনুমোদিত নক্শা মোতাবেক বাড়ী নির্মাণ করবেন এবং কর্পোরেশন বা অন্য কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে ঋণ নিয়ে বাড়ী নির্মাণ করেন নাই মর্মে জুডিশিয়াল ষ্ট্যামঙ্ে ঘোষনা পত্র দিতে হবে ।তাছাড়া ঋণ আবেদনকারী নিজের/ নিজেদের এবং তার/ তাদের পরিবার বর্গের জন্য যৌতুক নিবেন না বা যৌতুক দিবেন না মর্মে ঘোষনা পত্র দিতে হবে।

১০.০ সরকার/ জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ /( পুর্বের হাউজিং সেটেলমেন্ট )/ রাজউক/ সি.ডি.এ/ কে.ডি.এ/ আর.ডি.এ/ ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড/ হাউজিং সোসাইটি(সরকার থেকে বরাদ্দকৃত জমি) ইত্যাদি কর্তৃক বরাদ্দকৃত জমির ক্ষেত্রে নিম্নরূপ দলিলপত্র দাখিল করতে হবেঃ
১। মুল বরাদ্দপত্র ( এলটমেন্ট লেটার )।
২। দখল হসতানতর পত্র ( পজেশন লেটার )।
৩। মুল লীজ দলিল ও এর একটি ফটোকপি (১ম শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত করে )। মুল দলিল রেজিষ্ট্রি অফিস থেকে পাওয়া না গেলে মুল দলিল উঠানোর রশিদ এবং দলিল উঠানোর জন্য ২০০/- টাকা ফি প্রদান ও দলিলের একটি জাবেদা নকল দাখিল করতে হবে।
৪। মুল এলোটির কাছ থেকে হসতানতর মুলে জমির মালিক হলে মুল মালিকানা দলিল এবং বরাদ্দকারী কর্তৃপক্ষের অফিসের নামজারীর কাগজপত্র দাখিল করতে হবে।
৫। কর্পোরেশনের নিকট জমি বন্ধকের জন্য বন্ধক অনুমতিপত্র/ অনাপত্তি পত্র (এন.ও.সি ) ইত্যাদি কাগজপত্র দাখিল করতে হবে। এছাড়াও ৯ অনুচ্ছেদের ৭ হতে ১৬ নম্বর ক্রমিক উল্লেখিত কাগজপত্র দাখিল করতে হবে।

১১.০ গ্রুপ ঋণের ক্ষেত্রে আরও যে সমস্ত দলিল দাখিল করতে হবেঃ
১। একাধিক মালিকের ক্ষেত্রে কর্পোরেশনের নমুনা মোতাবেক গ্রুপ ঋণের রেজিষ্টার্ড এগ্রিমেন্ট দলিল দাখিল করতে হবে। উক্ত দলিল এর একটি ফটোকপি ১ম শ্রেণীর গেজেটেড অফিসার কর্তৃক সত্যায়িত করে দাখিল করতে হবে।
২। মুল এগ্রিমেন্ট দলিল রেজিষ্ট্রি অফিস থেকে পাওয়া না গেলে মুল দলিল তোলার রশিদ এবং দলিল উঠানোর জন্য ২০০/- টাকা জমা ও দলিলের জাবেদা নকল দাখিল করতে হবে।

১২.০ ঋণ আবেদনকারীগণ ব্যবসায়ী (শিল্পপতি/ মালিক/ অংশীদার/ পরিচালক হিসেবে) হলে সেক্ষেত্রে অন্য কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংক হতে ইতিপুর্বে কোন প্রকার ঋণ গ্রহণ করেছেন কিনা এ ব্যাপারে নির্ধারিত নমুনা মোতাবেক আবেদনকারীগণকে ঘোষনাপত্র ( ডিকেরেশন) দাখিল করতে হবে। যদি আবেদনকারী নিজ নামে বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে অন্য কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে কোন প্রকার ঋণ গ্রহণ করে থাকেন তবে উক্ত ব্যাংক/ আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে এ মর্মে ছাড়পত্র এনে দাখিল করতে হবে যে, উক্ত ব্যাংক/ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তিনি/ তার সংশ্লিষ্ট কোম্পানীর / প্রতিষ্ঠানের নামে কোন খেলাপী ঋণ নেই। আবেদনকারী ঋণ খেলাপী হলে কর্পোরেশন থেকে ঋণের আবেদন বিবেচনা করা হবে না।

১৩.০ ঋণের আবেদন দাখিলের সময় আবেদনকারীগণকে এ মর্মে ঘোষনাপত্র দাখিল করতে হবে যে, ঋণের জন্য প্রসতাবিত ( প্রসতাবিত শব্দের স্থলে শহরে নাম লিখতে হবে ) শহরে বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন/ অন্য কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণে অথবা আবেদনকারীর নিজস্ব অর্থে নির্মিত কোন বাড়ী নেই।

১৪.০ ঋণ মঞ্জুরী ত্বরান্বিত করার নিমিত্ত ঋণ দরখাসতের সাথে সকল প্রয়োজনীয় দলিলসমুহ দাখিল করা অপরিহার্য। আবেদনকারী প্রয়োজনবোধে কর্পোরেশন ভবনে অবস্থিত ঋণ বিভাগে বা সংশ্লিষ্ট জোন/ রিজিওন এর কাউসিলিং কাউন্টারে পরামর্শ গ্রহণ করতে পারবেন।

১৫.০ উল্লেখিত ফিস ব্যতীত ঋণ পাওয়ার জন্য আর কোন খরচের প্রয়োজন হয় না।

১৬.০ আবেদনপত্র সঠিক পাওয়া গেলে এবং প্রয়োজনীয় দলিলাদি আবেদনের সময় দাখিল করা হলে সরকার থেকে সরাসরি লিজপ্রাপ্ত জমির ক্ষেত্রে ২০দিন এবং ব্যাক্তি মালিকানাধীন জমির ( প্রাইভেট ল্যান্ড) এর ক্ষেত্রে ২৫ দিনের মধ্যে ঋণ মঞ্জুরীর ব্যবস্থা নেয়া হয়ে থাকে।

১৭.০ ঋণ মঞ্জুরীর পর করণীয়ঃ
১। নির্মিতব্য ইমারতের প্রাক্কলিত ব্যয়ের কমপক্ষে ২০% বা তার বেশী অথবা নির্মাণ ব্যয় এবং মঞ্জুরীকৃত টাকার পার্থক্যের যা বেশী ঋণ আবেদনকারীকে প্রথম কিস্তি গ্রহণের পুর্বে নির্মাণ কাজে বিনিয়োগ করতে হবে।
২। মঞ্জুরীকৃত টাকার উপর প্রতি হাজারে ৩ (তিন) টাকা (ফ্ল্যাট ঋনের ক্ষেত্রে ৫ টাকা) ঢাকায় কর্পোরেশন এর সদর দফতর ভবনে অবস্থিত জনতা ব্যাংক, পুরানা পল্টন শাখাসহ সোনালী ব্যাংকের নির্ধারিত শাখায় এবং ন্যাশনাল ব্যাংক, খুলনা ও সংশ্লিষ্ট অফিসে পরিদর্শন ফি জমা দিয়ে জমার রশিদ দাখিল করতে হবে।
৩। রেহেন দলিলের মুল্য বাবদ প্রতি কপি ১০০/- (একশত ) টাকা হিসাবে ঢাকার জন্য জনতা ব্যাংক, পুরানা পল্টন শাখাসহ সংশ্লিষ্ট অফিস হতে সরবরাহ করা হয়।
৪। রেহেন দলিলের রেজিষ্ট্রেশনের যাবতীয় ব্যয় ঋণ গ্রহীতাকে বহন করতে হবে।
৫। আবেদনকারীর ঋণের জামিনদার থেকে থাকলে জামিনদারকে ১৫০/- (একশত পঞ্চাশ) টাকা/ অথবা সরকার কর্তৃক ধার্যকৃত মুল্যমানের বিশেষ আঠাযুক্ত ষ্ট্যাম্প (স্পেশাল এডহেসিভ ষ্ট্যাম্প ) যুক্ত করে কর্পোরেশনের নির্ধারিত ফরমে ( জামিননামা ও জামিনদার প্রশ্নপত্র ফরম ১০০/ টাকা মুল্যে ঢাকায় কর্পোরেশন ভবনস্থ জনতা ব্যাংক, পুরানা পল্টন শাখায় এবং অন্যান্য স্থানে কর্পোরেশনের অফিস সমুহে পাওয়া যায় ) প্রথম কিসতি গ্রহণের পুর্বে লেটার অব গ্যারান্টি প্রদান করতে হবে।

১৮.০ ঋনের কিসতি প্রদানের পদ্ধতিঃ
১। নির্মাণ কাজের সাথে সংগতি রেখে চেকের মাধ্যমে কয়েক কিসতিতে ঋণ প্রদান করা হয়। ঋণের প্রথম কিসতির চেক রেহেন দলিল রেজিষ্ট্রেশনের সময় প্রদান করা হয়। পরবর্তী কিস্তি সমুহের চেক,নির্মাণ কাজে প্রয়োজনীয় ব্যয়করণ সাপেক্ষে পুর্ববর্তী চেক গ্রহণের ২ মাসের মধ্যে গ্রহণ করতে হয়। মঞ্জুরীপত্র ইস্যুর তারিখ হতে ৬ মাসের মধ্যে মঞ্জুরীপত্রে উল্লেখিত নির্মান কাজ সমাপ্তির পর প্রথম কিসতির চেক গ্রহণ করতে হয়। উক্ত সময়ের মধ্যে ১ম কিস্তি গ্রহণ করতে ব্যর্থ হলে মঞ্জুরী বাতিল হয়ে যেতে পারে।
২। সকল কিস্তির চেক সংশ্লিষ্ট জোনাল ও রিজিওনাল অফিস থেকে ইস্যু করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে চেক প্রদান করা হয়।

১৯.০ হিসাব সংরক্ষনঃ
প্রত্যেক ঋণের হিসাব সংশ্লিষ্ট রিজিওনাল ও জোনাল অফিসে সংরক্ষন করা হয়। ঋণ আদায়ের নোটিশ জারী, মামলা দায়ের এবং অন্য যে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের যাবতীয় খরচাদি ঋণ গ্রহিতাকে বহন করতে হয়।

২০.০ নক্সা/ বাড়ীর কাঠামো রদবদলঃ
যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিরেকে নক্সায় কোন রদবদল এবং কর্পোরেশনের পুর্বানুমতি ব্যতিরেকে ঋণে নির্মিত বাড়ীর আকার, আয়তন ও কাঠামোর পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন, বিয়োজন, অপসারন ইত্যাদি করা অবৈধ। ঋণ গ্রহিতাকে নিজ ব্যয়ে বাড়ীর নিয়মিত ও যথাযথ মেরামত এবং সংরন করতে হয় এবং ভূমি উন্নয়ন কর, পৌরকরসহ যাবতীয় কর পরিশোধ করতে হয়।

২১.০ ঋণ মুক্তি ( রিডেমপশান )
ঋণ পরিশোধের মেয়াদ শেষ হওয়ার পুর্বেও কর্পোরেশনের সমুদয় ঋণ পরিশোধ করা যায়। যে তারিখে সমপুর্ণ ঋণ পরিশোধ করা হবে তার পুর্ব দিন পর্যনত সুদ দিতে হয়। সমপুর্ণ ঋণ পরিশোধের পর জমাকৃত দলিলাদি গ্রহিতাকে ফেরত দেয়া হয়। ঋণ মুক্তি ( রিডেমপশান ) রেজিষ্ট্রি দলিলের মাধ্যমে করতে হলে এর ব্যয় ঋণ গ্রহিতাকে বহন করতে হয়।


সতর্কীকরণঃ

২২.০ কর্পোরেশনের নিকট হতে ঋণ গ্রহণের উদ্দেশ্যে অথবা কোন জামানত গ্রহনে কর্পোরেশনকে প্রবৃত্ত করার উদ্দেশ্যে কেহ ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মিথ্যা বিবরন দিলে কিংবা জ্ঞাতসারে কোন মিথ্যা বিবরন ব্যবহার করেন তাহলে ১৯৭৩ সালের বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনের আদেশের ( রাষ্ট্রপতির ১৯৭৩ সালের ৭ নম্বর আদেশ ) ৩৫(১) ধারা মোতাবেক দু'বছর পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা দু'হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয়দন্ডে দন্ডনীয় হবেন।

কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিক্রয়যোগ্য ফরমের মূল্য তালিকা এবং ব্যাংক মেমো বই সংগ্রহের নিয়ম

ক্রমিক নং বিবরণ মূল্য / ফি / চার্জ
১। রেহের দলিল ১০০/-
২। ঋণ  আবেদন ফরম ৫০০/-
৩। এপার্টমেন্ট / ফ্ল্যাট ঋণের আবেদন ফরম (ফরমাল) ১০০০/-
৪। জামিনদারের প্রশ্নপত্র ফরম (জামিননামা ফরম সহ) ১০০/-
৫। সাধারন ঋণের আবেদন ফি ( প্রতি হাজারে ) ৩/-
৬। সাধারন ঋণের পরিদর্শন ফি ( প্রতি হাজারে ) ৩/-
৭। ফ্যাট ঋণের আবেদন ফি ( প্রতি হাজারে ) ৫/-
৮। ফ্যাট ঋণের পরিদর্শন ফি ( প্রতি হাজারে ) ৫/-
৯। হস্তান্তর ফি ৭,৫০০/-
১০। ঋণ  বিভাজন ফি (প্রতিজনের জন্য) ৩,০০০/-
১১। হস্তান্তর ফরম ২০০/-
১২। ২য় রেহেনের অনুমতি ২,৫০০/-
১৩। বন্ধকী সম্পত্তির আংশিক অবমুক্তির আবেদন ফরম ৫০০/-
১৪। রেহেনাবন্ধ বাড়ী/ এপার্টমেন্ট বিক্রয়ের ত্রিপক্ষীয় দলিল ৫০/-

২৪.০ যে সমসত ঋণ গ্রহীতা ঋণের শেষ কিসতি টাকা গ্রহণ করেননি তাদের ক্ষেত্রে শেষ কিস্তির চেক গ্রহণের সময় ৫০.০০ টাকা জমা দিলে ১টি ব্যাংক মেমো বইসহ ঋণ পরিশোধের উপদেশ পত্র দেয়া হবে। মেমো বইয়ের পাতা শেষ হওয়ার পর নতুন মেমো বই সরবরাহ করা হবে।

২৫.০ ঋণ প্রদান ঃ কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ২০০৯-২০১০ অর্থ বছর পর্যনত পুঞ্জীভূত মঞ্জুরীকৃত ঋণের পরিমাণ ৪০৬৯.৪১ কোটি টাকা এবং বিতরনকৃত ঋণের পরিমাণ ৩৫৮৪.০২ কোটি টাকা। ২০০৯-২০১০ অর্থ বছরে ঋণ মঞ্জুরী ও বিতরণ করা হয়েছে যথাক্রমে ২৫০.০০ কোটি ও ২৩৪.০১ কোটি টাকা।