যোগাযোগঃ
২২, পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ৮৮-০২-৯৫৬১৩১৫,
৮৮-০২-৯৫৬২৭৬৭
ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৯৫৬১৩২৪
ই-মেইলঃ bhbfc@bangla.net

বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন
গৃহ নির্মান ঋণ সংক্রান্ত নিয়মাবলী

গৃহ নির্মান ঋণ পেতে হলে কি কি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে এবং কোন ধরনের দলিল দাখিল করতে হবে, তা নিন্মে বর্ণনা করা হলো। প্রয়োজনবোধে এইচ,বি,এফ,সি এর সদর দফতরে অবস্থিত অনুসন্ধান ও পরামর্শ ( কেন্দ্র বা সংস্লিষ্ট জোন ও রিজিওনাল অফিস হতে ঋণ বিষয়ে পরামর্শ ) গ্রহন করা যেতে পারে। কর্পোরেশন এর ঋণ পরিশোধ নিয়মাবলী অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কিছুটা ভিন্নতর বিধায় ঋণ গ্রহনের পূর্বে সকল গ্রহীতাকে কিস্তি, সুদ ঋণ পরিশোধের পদ্ধতি ইত্যাদি সম্পর্কে পূর্নাঙ্গঁতথ্য  জেনে নিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

২.০ ঋণের প্রকারঃ পূর্বে কর্পোরেশন হতে মাত্র দু'ধরনের ঋণ  দেয়া হত, যেমন সাধারন এবং বহুতল বিশিষ্ট বাড়ীর জন্য ঋণ । বর্তমানে কর্পোরেশন নিন্মোক্ত ৭ প্রকার গৃহ ঋণ  দিয়ে থাকেঃ-

১। সাধারন ঋণঃ একক বা স্বামী ও স্ত্রীর নামে প্রদত্ত ঋণ
২। গ্রুপ ঋণঃ একাধিক ব্যাক্তির মালিকানাধীন প্লটে ফ্লাট ভিত্তিক গ্রুপ ঋণ।
৩। ফ্লাট / এপার্টমেন্ট ঋণঃ নির্মীয়মান ফ্লাট / এপার্টমেন্ট কেনার জন্য ঋণ।
৪। সমন্বিত ঋণঃ পূর্বে গৃহীত ঋণ গ্রহীতাদের পূর্বের ঋণের সম্পূর্ন সমন্বয় পূর্বক নকশা মোতাবেক বাড়ীর অনির্মিত কাজ সম্পুর্ন করার জন্য প্রদত্ত ঋণ।
৫। সেমি পাকা বাড়ীর জন্য ঋণঃ ঢাকা ও চট্রগ্রামে মেট্রোপলিটন এলাকা ব্যাতীত অনান্য এলাকার জন্য ঋণ বিভাগীয় ও জেলা সদর এবং তত্‍সংলগ্ন সম্ভাবনাময় গ্রোথ সেন্টার/ বানিজ্যিক স্থান সমূহে সেমি পাকাবাড়ীর নির্মাণের জন্য প্রদত্ত ঋণ।
৬। মধ্যবিত্ত ও নিন্মমধ্যবিত্ত ফ্লাট ঋণঃ মধ্যবিত্ত ও নিন্মমধ্যবিত্ত শ্রেনীর জন্য ৫৫০ হতে ১০০০ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাট নির্মান ও গ্রুপ ভিত্তিক  ফ্ল্যাট নির্মানের জন্য প্রদত্ত ঋণ ।
৭। স্বল্প মেয়াদী বিশেষ ঋণঃ অনুমোদিত নক্শা মোতাবেক বাড়ী/দালানের নির্মান কাজ আরম্ভ করে নির্মান কাজ শেষ/ফিনিশিং পর্যায়ে এনেছেন শুধু মাএ তাদের দালানের অসম্পূর্ন নির্মান কাজ সম্পূর্ন করার জন্য প্রদত্ত ঋণ।

৩.০ কার্যক্রমের এলাকাঃ কর্পোরেশন বর্তমানে ঢাকা ও চট্রগ্রাম মহানগরীসহ দেশের সকল বিভাগীয়, জেলাসদর, উপজেলা সদর ও সম্ভাবনাময় গ্রোথ-সেন্টার/বানিজ্যিক স্থান সমূহে কর্পোরেশন ঋণ প্রদান কার্যক্রম চালু রয়েছে।

৪.০ বাড়ীর আবৃতাংশ ও ঋণের সিলিং: জমির মূল্য, অবস্থান, পারিপার্শ্বিকতা, নির্মিতব্য ভবনের গুনগত মান এবং সম্ভাব্য বাড়ী ভাড়ার ভিত্তিতে কর্পোরেশন এলাকা ভেদে নির্মিতব্য ভবনের/ কাঠামোর আবৃতাংশ বিবেচনায় ঋণের সিলিং নির্ধারন করেছে।

গৃহ নির্মাণ ঋণ সংক্রান্ত নিয়মাবলীঃ

৪.১। ঢাকা চট্রগ্রাম মহানগরীর সরকারী / আধাসরকারী প্লট সমূহে ইমারত নির্মাণের জন্য সর্বোচ্চ ৪০ লক্ষ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়ে থাকে।
৪.২। ঢাকা চট্রগ্রাম মহানগরীর অনান্য এলাকা এবং তদসংলগ্ন সম্ভাবনাময় গ্রোথ-সেন্টার / বানিজ্যিক স্থান সমূহে সর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়ে থাকে।
৪.৩। সিলেট বিভাগীয় সদর ও মৌলভীবাজার জেলা সদর / পৌরসভায় এবং তদসংলগ্ন সম্ভবনাময় গ্রোথ-সেন্টার / বানিজ্যিক স্থান সমূহে সর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়ে থাকে।
৪.৪। নারায়নগজ্ঞ, টংগী  পৌরসভা এলাকা এবং তদসংলগ্ন সম্ভবনাময় গ্রোথ-সেন্টার / বানিজ্যিক স্থান সমূহে সর্বোচ্চ ২৫ লক্ষ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়ে থাকে।
৪.৫। বরিশাল সিটি কর্পোরেশন, বগুড়া, পৌরসভা ও সিলেট বিভাগের অন্যান্য জেলা সদর ও সাভার পৌরসভায়  সর্বোচ্চ ২০ লক্ষ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়ে থাকে।
৪.৬। গাজীপুর, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, জামালপুর, টাংগাইল, দিনাজপুর, রংপুর, পাবনা, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, যশোহর, খুলনা, নোয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লা, কক্সবাজার, পটুয়াখালী জেলা সদর, শ্রীমংগল ও কুলাউড়া পৌরসভা এলাকা এবং তদসংলগ্ন সম্ভবনাময় গ্রোথ-সেন্টার / বানিজ্যিক স্থান সমূহে সর্বোচ্চ ১৫ লক্ষ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়ে থাকে।
৪.৭। ৪.৬ নং ত্রুমিকে উল্লিখিত এলাকা বাদে অন্যান্য জেলা সদরে সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়ে থাকে।
৪.৮। দেশের অন্যান্য উপজেলা সদর ও তদসংলগ্ন গ্রোথ-সেন্টার / বানিজ্যিক স্থান সমূহে সর্বোচ্চ ৬ লক্ষ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়ে থাকে।
৪.৯। ঢাকা ও চট্রগ্রাম মহানগরী ব্যাতীত অন্যান্য সকল বিভাগীয়,জেলা সদর ও তদসংলগ্ন সম্ভাবনাময় গ্রোথ-সেন্টার / বানিজ্যিক স্থান সমূহে সেমি পাকা বাড়ী নির্মানের জন্য সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়ে থাকে।

৫.০ গ্রুপ ঋণের ক্ষেত্রেঃ

৫.১। কতিপয় শর্ত সাপেক্ষে একাধিক ব্যাক্তি মালিকানাধীন প্লটে ফ্লাট ভিত্তিক গ্রুপ ঋণ দেয়া হয়ে থাকে। এ ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর সংখ্যার কোন সীমাবদ্বতা নেই।
৫.২। ঢাকা ও চট্রগ্রাম মহানগরীর সরকারী প্লটসমূহে এক বা একাধিক ইউনিট/ফ্লাট নির্মানের জন্য সর্বোচ্চ জন প্রতি ১৫ লক্ষ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়ে থাকে।
৫.৩। ঢাকা ও চট্রগ্রাম মহানগরীর  অনান্য এলাকা ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ও  তদসংলগ্ন গ্রোথ-সেন্টার / বানিজ্যিক স্থান সমূহে সর্বোচ্চ ১২ লক্ষ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়ে থাকে।
৫.৪। বরিশাল, নারায়নগজ্ঞ, সাভার, টংগী ও ৪ অনুচ্ছেদের ৪.৫ ও ৪.৬ নং ক্রমিকে উল্লিখিত এলাকাসমূহে সর্বোচ্চ জন প্রতি ৬ লক্ষ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়ে থাকে। (শ্রীমংগল ও কুলাউরা পৌরসভা বাদে)
৫.৫। অধিক সংখ্যক পরিবারকে ঋণ  প্রদান করা কর্পোরেশনের উদ্দেশ্য। একই পরিবারে ব্যাক্তিগতভাবে উপার্জনশীল যে কোন সংখ্যক সদস্যকে গ্রুপ ঋণ  প্রদান/বিবেচনা করা হয়ে থাকে।


৬.০ সমন্বিত ঋণঃ

৬.১। কর্পোরেশন এর যে সকল ঋণ গ্রহীতা শেষ কিস্তির চেক গ্রহন করেছেন কিন্তু আনুমোদিত নক্শা অনুযায়ী বাড়ীর অবশিষ্ট নির্মান কাজ কিংবা বাড়ী সম্প্রসারণের কাজ অর্থায়নের অভাবে সম্পূর্ন করতে পারছেন না এবং আর্থিক অসুবিধার কারণে সম্পূর্ন ঋণ পরিশোধ করে পুনরায় ঋণ নিয়ে অনুমোদিত নক্শা অবশিষ্ট কাজ নির্মাণ করতে সক্ষম হচ্ছেন না তাদেরকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে সমন্বিত ঋণ প্রথা চালু করা হয়েছে। এক্ষেত্রে মন্জ্ঞুরীকৃত প্রথম কিস্তির চেক দ্বারা  ঋণের সম্পূর্ন পাওনা (সুদাসল) সমন্বয় করে মন্জ্ঞুরীকৃত  আবশিষ্ট ঋণ প্রদান করা হয়ে থাকে। সমন্বিত ঋণ পেতে হলে পূর্বে গৃতীত ঋণের মাসিক কিস্তি হালনাগাদ পরিশোধ থাকতে হবে। এক্ষেত্রে কিস্তি রিসিডিউলিং এ বিষয়টি বিবেচনায় আনা হবে। নির্মিত ও নির্মিতব্য বাড়ী অনুমোদিত নক্শা  মোতাবেক হতে হবে। একাধিক ঋণ আবেদনকারী হলে একে অপরের জন্য পরস্পর গ্যারান্টার হতে হবে। বন্ধকী সম্পত্তির অন্য কোথাও  ২য় রেহেন করা থাকলে সমন্বিত ঋণ বিবেচনা করা হবে না। সমন্বিত ঋণ সংক্রান্ত বিষয়ে আরো কোন পরামর্শ কেন্দ্র বা সংশ্লিষ্ট জোন ও রিজিওন হতে জানা যাবে।

৭.০ ঋণ পরিশোধের মেয়াদঃ
সুদ, আসল ও নির্মাণকালীন সুদের কিস্তিসহ নির্ধারিত মাসিক কিস্তিতে ১৫ (সাধারন ঋণের ক্ষেত্রে) বছর বা ১৮০ টি এবং মধ্যবিত্ত ও নিন্মমধ্যবিত্ত স্কীমে ২০ বছর বা ২৪০ টি এবং স্বল্প মেয়াদী বিশেষ ঋণের বেলায় ৫ বছর বা ৬০ টি নির্ধারিত সমান মাসিক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধযোগ্য।

৮.০ সাইড স্পেসঃ

৮.১ ঋণের জন্য প্রস্তাবিত ভবনের চারিদেকে সাইড স্পেস অনুমোদিত নক্শা মোতাবেক বাস্তবে ঠিক না থাকলে ঋণ বিবেচনা করা যাবে না।
৮.২ ভবিষ্যতে রাস্তা সম্প্রসারনের জন্য অনুমোদিত নক্শায় রাস্তার দুই পার্শ্বের বা এক পার্শ্বে ক্ষতিগ্রস্থ সমর্পিত/প্রশস্তকরণ দেখিয়ে নক্শা অনুমোদন করা থাকলে ঐ সমস্ত নক্শার ভিত্তিতে ঋণ বিবেচনা করা যাবে।

৯.০ একই পরিবারের মধ্যে একাধিক ঋণ প্রদান করা হবে না ( পরিবার বলতে স্বামী ও স্ত্রী এবং তাদের উপর নির্ভরশীল ছেলে মেয়েদের বোঝাবে)। শুধুমাএ পরিবারের একজন সদস্যের নামে ঋণ আবেদন করা যাবে। কর্পোরেশন থেকে পূর্বে কোন ঋণ নিয়ে থাকলে পূর্বের ঋণ সম্পূর্ন পরিশোধ না হওয়া পযর্ন্ত ঐ পরিবারের অন্য কোন সদস্য ঋণের আবেদন করতে পারবে না। স্বামী  স্ত্রীর ক্ষেত্রে একক নাম বা যৌথ নামে শুধুমাএ একটি ঋণ দেয়া হবে। যৌথ নামে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে স্বামী, স্ত্রীর মধ্যে যে কোন একজনের নিজস্ব আয় থাকলে চলবে। সাধারনত নাবালকের নামে কোন ঋণ মজ্ঞুর করা যাবে না। তবে নাবালকের পক্ষে স্বাভাবিক বা আইনগত অভিভাবক জামিনদার হলে এবং অভিভাবক হিসাবে নাবালকের পক্ষে সকল দলিল পত্রে স্বাক্ষর করলে ঋণ দেয়া যেতে পারে । সে ক্ষেত্রে অভিভাবককে আলাদা ঋণ দেয়া হবে না।

৯.১  একই শহরে যাদের বসবাসের নিজস্ব বাড়ী আছে তাদের নতুন বাড়ী নির্মানের জন্য ঋণ বিবেচনা করা হবে না। তবে প্রস্তাবিত বন্ধকী  জমিতে অনুমোদিত অনুমোদিত নক্শা অনুযায়ী ইতিমধ্যে নির্মিত বাড়ীর (যদি থাকে) অবশিষ্ট অংশ (ভার্টিক্যালী অথবা, হরিজেন্টালী) নির্মাণ / সম্প্রসারনের জন্য প্রচলিত বিধি মোতাবেক ঋণ বিবেচনা করা যাবে এবং ঋণ সুপারিশ করার সময নির্মিত অংশের সম্ভ্যাব্য ভাড়ার ৭৫% টাকাকে পরিশোধযোগ্য আয় হিসাবে গ্রহন করে ঋণের প্রাপ্যতা নিরুপন করা হবে।

১০.০ ঋণ আবেদনকারীকে নির্ধারিত ফরমে (প্রতিটি ঋণ আবেদন ফরম ৫০০/- টাকা মূল্যে ঢাকায় কর্পোরেশনের ভবনে অবস্থিত জনতা ব্যাংক, খুলনা অফিসে ন্যাশনাল ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট জোনাল ও রিজিওনাল অফিস হতে এবং অন্যান্য স্থানে কর্পোরেশনের অফিস সমূহে পাওয়া যায়) নিন্ম বর্নিত দলিলপএ সহ সংশ্লিষ্ট জোনাল ও রিজিওনাল অফিসে আবেদন দাখিল করতে হয়। বেসরকারী / ব্যাক্তি মালিকাধীন জমির ক্ষেত্রে নিন্মরূপ দলিল পত্র দাখিল করতে হবেঃ

১। আবেদনকারীর মূল মালিকানা দলিল ( সাফ কবলা/ দানপত্র / বন্টন নামা) এবং উক্ত দলিল এর একটি ফটোকপি ১ম শ্রেনীর গেজেটেড অফিসার  কর্তৃক সত্যায়িত করে দাখিল করতে হবে। মূল দলিল রেজিঃ অফিস থেকে আবেদনের পূর্বে পাওয়া না গেলে দলিল উঠানো ক্ষমতা প্রদানসহ দলিল উঠানোর মূল রসিদ ও দলিল তোলার ফি বাবদ ২০০/- টাকা এবং দলিলের একখানা সার্টিফাইড কপি দাখিল করতে হবে।
২। সি, এ, ও এস, এ খাতিয়ানের সার্টিফাইড কপি।
৩। নামজারী খতিয়ানসহ ডি, সি, আর ও হালসন নাগাদ খাজনার রসিদ।
৪। কমপক্ষে ২০ (বিশ) বছরের বায়া দলিল দাখিল করতে হবে। তবে ঐরূপ বায়া দলিল দ্বারা সি, এ ও এস, এ রেকর্ডীয় স্বত্বের সংগে ধারাবাহিকতা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্তবায়া দলিলের কপিও দাখিল করতে হবে।
৫। জেলা রেজিষ্ট্রারের অফিস থেকে ১২ (বার) বছরের তফসীলসহ নির্দায় সার্টিফিকেট (এন,ই সি.) সংগ্রহ করে দাখিল করতে হবে।
৬। যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নির্মিতব্য বাড়ীর নক্শার অনুমোদন পএসহ এক কপি অনুমোদিত নক্শাএবং একিট অতিরিক্ত কপি দাখিল করতে হবে।
৭। মাটির ভারবহন ক্ষমতা জানার জন্য সয়েল টেষ্ট রিপোর্ট দাখিল করতে হবে। জমির সয়েল টেষ্ট রিপোর্টের প্রতি পৃষ্ঠায় মালিকের স্বাক্ষর ও সংশ্লিষ্ট স্নাতক প্রকৌশলী (বি, এস, সি সিভিল ইনজ্ঞিনিয়ার) এর স্বাক্ষর থাকতে হবে (ঢাকা চট্রগ্রাম মহানগরীর বেলায়) দেশের অন্যান্য এলাকার বেলায় সয়েলের বিয়ারিং ক্যাপাসিট সম্পর্কে ৫ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিএসসি ইন্জিনিয়ার এর সির্টিফিকেট লাগবে।
৮। (ক) বহুতল বাড়ীর জন্য ২ কপি ষ্ট্রাকচারাল ডিজাইন (ভিত্তি/বীম/কলাম/ছাদ/সিড়ি ইত্যাদি) ও ভারবহন ক্ষমতার সার্টিফিকেট কমপক্ষে ৫ (পাঁচ)  বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন গ্রাজুয়েট সিভিল ইন্জিনিয়ার / নির্বাহী প্রকৌশলী / প্রকৌশল পরামর্শ দাতা প্রতিষ্ঠান  কর্তৃক ইস্যুকৃত।
(খ) ৭ তলা ও তদুর্ধ ভবনের বেলায় ১০ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন গ্রাজুয়েট সিভিল ইনজ্ঞিনিয়ার / নির্বাহী প্রকৌশলী / প্রকৌশল পরামর্শ দাতা প্রতিষ্ঠান  কর্তৃক ভারবহন সনদ নিতে হবে। ঢাকা ও চট্রগ্রাম মহানগরীর বেলায় বিএনবিসি অনুযায়ী ভুমিকম্প প্রতিরোধী সনদ দিতে হবে (কর্পোরেশনের নির্ধারিত ছকে)
৯। অত্র সংস্থা কর্তৃক নির্মান স্থল পরিদর্শনের সুবিধার্থে প্রস্তাবিত নির্মান স্থানে যাওয়ার রাস্তার বিবরনসহ আশে পাশের গুরুত্বপূর্ন স্থাপনার উল্লেখ পূর্বক ট্রেসিং পেপারে ২ কপি হাতে আঁকা  রুট ম্যাপ (আবেদনকারীর স্বাক্ষর সম্বলিত) দিতে হবে।
১০। ২ কপি সত্যায়িত স্বাক্ষর এবং ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের সত্যায়িত ছবি দাখিল করতে হবে।
১১। দরখাস্ত ফি জমা প্রদানের রসিদ ( প্রতি হাজারে ৩/- টাকা হারে সোনালী ব্যাংকের নির্দিষ্ট শাখায় এবং এইচ বি এফ সি ভবনের নীচ তলায় জনতা ব্যাংকে, কর্পোরেশনের নির্ধারিত ফর্মে ফিসের টাকা জমা প্রদান করা যায়। এ ছাড়াও কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট অফিসে জমা করা যায়।
১২। আবেদনকারীর আয়ের প্রমানপত্র ও চাকুরী ক্ষেত্রে ঋণ  আবেদন ফর্মের  নির্দিষ্ট পাতায় বেতন সনদ এবং ব্যবসার ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স ও আয় সম্পর্কে হলফনামা। আয়কর পরিশোধযোগ্য আয় হলে আই.টি.এ ও এর সার্টিফিকেট কপি। আবেদনকারী বিদেশে কর্মরত থাকলে তার আবেদনপত্র, ছবি ও আয়ের সনদপত্র সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্হিত বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক সত্যায়ন পূর্বক ঢাকাস্থ পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় হতে প্রতিস্বাক্ষরিত / প্রমানিকরন করিয়ে জমা দিতে হবে।
১৩। দরখাস্তকারীর নিজস্ব আয় না থাকলে স্বামী / স্ত্রী / ছেলে /অবিবাহিত মেয়েকে জামিনদার করা যায় এবং এরূপ ক্ষেত্রে কর্পোরেশনের নির্ধারিত জামিনদারের প্রশ্নপত্র ফরম পূরন করে দাখিল করতে হবে এবং জামিনদারের আয়ের স্বপক্ষে দালিলিক প্রমান দিতে হবে।
১৪। দরখাস্ত জমা দেয়ার পরপরই প্রস্তবিত বন্ধকী জমির পরিচয়সহ  সাইটে নামফলক লাগাতে হবে।
১৫। প্রস্তাবিত বন্ধকী জমিতে ঘর দরজা না থাকার কারনে পৌরসভার হোল্ডিং নম্বর না নেওয়া হয়ে থাকলে শেষ চেক গ্রহনের পূর্বে উক্তরূপ হোল্ডিং নম্বর দাখিল করতে হবে ও কর পরিশোধের প্রত্যায়নপত্রও দিতে হবে।
১৬। অনুমোদিত নক্শা মোতাবেক বাড়ী নির্মান করবেন এবং কর্পোরেশন বা অন্য কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে ঋণ  নিয়ে বাড়ী নির্মান করেন নাই মর্মে -জুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্পে ঘোষনাপত্র দিতে হবে।তাছাড়া ঋণ  আবেদনকারী নিজের / নিজেদের এবং তার/তাদের পরিবার বর্গেরজন্য যৌতুক নিবেন না বা যৌতুক দিবেন না মর্মে ঘোষনা পত্র দিতে হবে।

১০.১ সরকার /জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ / (পূর্বেকার হাউজিং সেটেলমেন্ট ) / রাজউক/ সি,ডি, এ/ কেডিএ/আরডিএ/ ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড / হাউজিং সোসাইটি (সরকার থেকে বরাদ্দকৃত জমির ক্ষেত্রে নিন্মরুপ দলিল পএ দাখিল করতে হবেঃ

১। মূল বরাদ্দপত্র (এলটমেন্ট লেটার)
২। দখল হস্তান্তর পত্র (পজেশন লেটার)
৩। মূল লীজ দলিল ও এর একটি ফটোকপি (১ম শ্রেনীর গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত করে) মূল দলিল রেজিষ্ট্রি অফিস  থেকে পাওয়া না গেলে মূল দলিল উঠানোর রশিদ  এবং দলিল উঠানোর জন্য ২০০/- টাকা ফি প্রদান ও দলিলের একটি জাবেদা নকল দাখিল করতে হবে।
৪। মুল এলোটির কাছ থেকে  হস্তান্তর মূলে মালিক হলে মূল মালিকানা দলিল এবং বরাদ্দকারী কর্তৃপক্ষের আফিসে নামজারীর কাগজপত্র দাখিল করতে হবে।
৫। কর্পোরেশনের নিকট বন্ধকের জন্য অনাপত্তি পত্র (এন, ও, সি) ইত্যাদি কাগজপত্র দাখিল করতে হবে । এছাড়াও ১৫ অনুচ্ছেদের ৬ হতে ১৬ নম্বর ক্রমিক উল্লেখিত কাগজ পত্র দাখিল করতে হবে।

গ্রুপ ঋণের ক্ষেত্রে আরও যে সমস্ত দলিল দাখিল করতে হবেঃ

১। একাধিক মালিকের ক্ষত্রে কর্পোরেশনের নমুনা মোতাবেক গ্রুপ ঋণের রেজিষ্টার্ড এগ্রিমেন্ট দলিল দাখিল করতে হবে। উক্ত দলিল এর একটি ফটোকপি ১ম শ্রেনীর গেজেটড অফিসার কর্তৃক সত্যায়িত করে দাখিল করতে হবে।

২। মূল দলিল রেজিষ্টি অফিস থেকে পাওয়া না গেলে মূল দলিল তোলার রসিদ এবং দলিল উঠানোর জন্য ২০০/- টাকা জমা ও দলিলের জাবেদা নকল দাখিল করতে হবে।

১১.০ ঋণ আবেদনকরীগন ব্যবসায়ী (শিল্পপতি/মালিক/অংশীদার /পরিচালক হিসেবে) হলে সেক্ষেত্রে অন্য কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংক হতে ইতিপূর্বে কোন প্রকার ঋণ গ্রহন করেছেন কিনা  এ ব্যাপারে নির্ধারিত নমুনা মোতাবেক আবেদনকারীগনকে ঘোষনাপত্র (ডিক্লেরেশন) দাখিল করতে হবে। যদি আবেদনকারী নিজ নামে বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে অন্য কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে কোন প্রকার ঋণ গ্রহন করে থাকেন তবে উক্ত  ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে  কোন প্রকার ঋণ  গ্রহন করে থাকেন তবে উক্ত ব্যাংক / আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে এ মর্মে ছাড়পএ এনে দাখিল করতে হবে যে, উক্ত ব্যাংক / অর্থিক প্রতিষ্ঠানে তিনি/ তার সংশ্লষ্ট কোম্পানীর / প্রতিষ্ঠানের নামে কোন খেলাপী ঋণ নেই। আবেদনকারী ঋণ খেলাপী হলে কর্পোরেশন থেকে ঋণের আবেদন বিবেচনা করা হবে না।

১২.০ ঋণে আবেদন দাখিলের সময় আবেদনকারীগনকে এ মর্মে ঘোষনাপত্র দাখিল করতে হবে যে, ঋণের জন্য প্রস্তাবিত ( প্রস্তাবিত শব্দের স্থলে শহরে নাম লিখতে হবে) শহরে বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন / অন্য কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণে অথবা আবেদনকারীর নিজস্ব অর্থে নির্মিত কোন বাড়ী আবেদনকারীর নেই।

১৩.০ ঋণ মন্জ্ঞুরী ত্বরান্বিত করার নিমিত্ত ঋণ দরখাস্তের সাথে সকল প্রয়োজনীয় দলিলসমূহ দাখিল করা অপরিহার্য। আবেদনকারী প্রয়োজনবোধে কর্পোরেশন ভবনে অবস্থিত অনুসন্ধান ও পরামর্শ কেন্দ্র বা সংশ্লিষ্ট জোনের কাউসিলিং কাউন্টারে পরামর্শ গ্রহন করতে পারবেন।

১৪.০ এই পুস্তিকায় উল্লিখিত ফিস ব্যতীত ঋণ পাওয়ার জন্য আর কোন খরচের প্রয়োজন হয় না।

১৫.০ আবেদনপত্র সঠিক পাওয়া গেলে এবং প্রয়োজনীয় দলিলাদি আবেদনের সময় দাখিল করা হলে সরকার থেকে সরাসরি লিজ প্রাপ্ত জমির ক্ষেত্রে ৫৯ দিন এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির (প্রাইভেট ল্যান্ড) এর ক্ষেত্রে ৬৫ দিনের মধ্যে ঋণ মন্জ্ঞুরীর ব্যবস্থা নেয়া হয়ে থাকে।

১৬.০ সকল প্রকার ঋণ সদর দফতর থেকে মন্জ্ঞুর করা হয়।

১৭.০ ঋণ মন্জুরীর পর করণীয়ঃ

১৭.১ প্রাক্কলিত ব্যায়ের ক্ষেত্র বিশেষে ২৫% হতে ৩০% ও তার বেশী অথবা, নির্মাণ ব্যয় এবং মন্জ্ঞুরীকৃত টাকার পার্থক্যের যা বেশী ঋণ আবেদনকারীকে প্রথম কিস্তি গ্রহণের পূর্বে নির্মান কাজে বিনিয়োগ  করতে হবে।
১৭.২ মন্জ্ঞুরীকৃত টাকার উপর প্রতি হাজারে ৩/- (তিন) টাকা ঢাকার কর্পোরেশন ভবনে অবস্থিত জনতা ব্যাংক, পুরানা পল্টন শাখাসহ সোনালী ব্যাংকের নির্ধারিত শাখায় এবং ন্যাশনাল ব্যাংক , খুলনা ও সংশ্লিষ্ট অফিসে পরিদর্শন ফি জমা দিয়ে জমার রশিদ দাখিল করতে হবে।
১৭.৩ রেহেন দলিলের মূল্য বাবদ প্রতি কপি ১০০/- (একশত) টাকা হিসাবে ঢাকার জন্য জনতা ব্যাংক, পুরানা পল্টন শাখাসহ সংশ্লিষ্ট অফিস হতে সরবরাহ করা হয়।
১৭.৪  রেহেন দলিলের রেজিষ্ট্রেশনের যাবতীয় ব্যায় ঋণ গ্রহীতাকে বহন করতে হবে।
১৭.৫ আবেদনকারীর জামিনদার থেকে থাকলে জামিনদারকে ১৫০/- (একশত পঞ্চাশ) টাকার (অথবা সরকার কর্তৃক ধার্যকৃত মূল্যমানের বিশেষ আঠাযুক্ত টিকিট (স্পেশাল এডহেসিভ ষ্টাম্পে) যুক্ত করে কর্পোরেশনের নির্ধারিত ফরমে (জামিননামা ও জামিনদার প্রশ্নপত্র  ফরম ১০০/- টাকা মূল্যে ঢাকায় কর্পোরেশন ভবনস্থ জনতা ব্যাংক, পুরানা পল্টন শাখায় এবং অন্যান্য স্থানে কর্পোরেশনের অফিসসমূহে পাওয়া যায়) প্রথম কিস্তি গ্রহণের পূর্বে লেটার অফ গ্যারান্টি প্রদান করতে হবে।

 ১৮. ঋণের কিস্তি প্রদানের পদ্ধতিঃ

১৮.১ নির্মাণ কাজের সাথে সংগতি রেখে চেকের মাধ্যমে কয়েক কিস্তিতে ঋণ প্রদান করা হয়। ঋণের প্রথম কিস্তির চেক রেহেন দলিল রেজিষ্ট্রেশনের সময় প্রদান করা হয়। পরবর্তী কিস্তি সমূহের চেক, নির্মাণ কাজে প্রয়োজনীয় ব্যয়করণ সাপেক্ষে পূর্ববর্তী চেক গ্রহনের ২ মাসের মধ্যে গ্রহন করতে হয়। মন্জ্ঞুরীপত্র  ইস্যুর তারিখ হতে ৬ মাসের মধ্যে মন্জ্ঞুরীপত্রে উল্লেখিত নির্মান কাজ সমাপ্তির পর প্রথম কিস্তির চেক গ্রহন করতে হয় । উক্ত সময়ের মধ্যে ১ম কিস্তি গ্রহণ করতে ব্যর্থ হলে মন্জ্ঞুরী বাতিল হয়ে যেতে পারে।

১৮.২ সকল কিস্তির চেক সংশ্লিষ্ট জোনাল অফিস থেকে ইস্যু করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে চেক প্রদান করা হয়।

১৯. হিসাব সংরক্ষনঃ
প্রত্যেক ঋণের হিসাব সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক বা জোনাল অফিসে সংরক্ষন করা হয়।ঋণ  আদায়ের নোটিশ জারী, মামলা দায়ের এবং অন্য যে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের যাবতীয় খরচাদি ঋণ   গ্রহিতাকে বহন করতে হয়।

২০.০ নক্সা/ বাড়ীর কাঠামো রদবদলঃ
যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিরেকে নক্সায় কোন রদবদল এবং কর্পোরেশনের পুর্বানুমতি ব্যতিরেকে ঋণে নির্মিত বাড়ীর আকার, আয়তন ও কাঠামোর পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন, বিয়োজন, অপসারন ইত্যাদি করা আবৈধ। ঋণ গ্রহিতাকে নিজ ব্যায়ে বাড়ীর নিয়মিত ও যথাযথ মেরামত এবং সংরক্ষ করতে হয় এবং ভূমি উন্নয়ন কর, পৌরকরসহ যাবতীয় কর পরিশোধ করতে হয়।

২১.০ ঋণ মুক্তি (রিডেম্পশান)
ঋণ পরিশোধের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে ও কর্পোরেশনের সমুদয় ঋণ  পরিশোধ করা যায়। যে তারিখে সম্পূর্ন ঋণ  পরিশোধ করা হবে তার পূর্ব দিন পর্যন্ত সুদ দিতে হয় । সম্পূর্ন ঋণ  পরিশোধের পর জমাকৃত দলিলাদি গ্রতিতাকে ফেরত দেয়া হয়। ঋণ  মুক্তি (রিডেম্পশান) রেজিষ্ট্রি দলিলের মাধ্যমে করতে হলে এর ব্যয় ঋণ  গ্রহিতাকে বহন করতে হয়।

সতর্কীকরণঃ

কর্পোরেশনের নিকট ঋণ  গ্রহনের উদ্দেশ্যে অথবা, কোন জামানত গ্রহনের প্রবৃত্ত করার উদ্দেশ্য কেহ ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মিথ্যা বিবরন দিলে কিংবা জ্ঞাতসারে কোন মিথ্যা বিবরন ব্যবহার করলে, ১৯৭৩ সালের বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনের আদেশের (রাষ্ট্রপতির ১৯৭৩ সালের ৭ নম্বর আদেশ) ৩৫ (১) ধারা মোতাবেক দু'বছর পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা দু'হাজার টাকা জরিমানা অথবা, উভয় দন্ডে দন্ডনীয় হবেন।

কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিক্রয়যোগ্য ফরমের মূল্য তালিকা এবং ব্যাংক মেমো বই সংগ্রহের নিয়ম
 

ক্রমিক নং বিবরণ মূল্য / ফি / চার্জ
১। রেহের দলিল ১০০/-
২। ঋণ  আবেদন ফরম ৫০০/-
৩। এপার্টমেন্ট / ফ্ল্যাট ঋণের আবেদন ফরম (ফরমাল) ৩০০/-
৪। জামিনদারের প্রশ্নপত্র ফরম (জামিননামা ফরম সহ) ১০০/-
৫। ঋণ  আবেদন ফি (প্রতি হাজারে) ৩/-
৬। পরিদর্শন ফি (প্রতি হাজারে) ৩/-
৭। হস্তান্তর ৭,৫০০/-
৮। ঋণ  বিভাজন ফি (প্রতিজনের জন্য) ৩,০০০/-
৯। হস্তান্তর ফরম ২০০/-
১০। ২য় রেহেনের অনুমতি ২,৫০০/-
১১। এপার্টমেন্ট ফ্ল্যাট ঋনের জন্য সাময়িক আবেদন ফরম ৪০০/-
১২। বন্ধকী সম্পত্তির আংশিক অবমুক্তির আবেদন ফরম ৫০০/-
১৩। রেহেনাবন্ধ বাড়ী / এপার্টমেন্ট বিক্রয়ের ত্রিপক্ষীয় দলিল ৫০/-


যে সমস্ত ঋণ  গ্রহীতা ঋণের শেষ কিস্তির টাকা গ্রহন করেননি তাদের ক্ষেত্রে শেষ কিস্তির চেক গ্রহনের সময় ৫০.০০ টাকা জমা দিলে ১টি ব্যাংক মেমো বই সহ ঋণ  পরিশোধের উপদেশ পত্র  দেয়া হবে । মেমো বইয়ের পাতা শেষ হওয়ার পর নতুন মেমো বই সরবরাহ করা হবে।

ঋণ প্রদানঃ কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ২০০৪-২০০৫ অর্থ বছর পর্যন্ত পুঞ্জীভূত মঞ্জুরীকৃত ঋণের পরিমান ৩১৫১.০০ কোটি টাকা এবং বিতরনকৃত ঋণের পরিমান ২৮০১.৫৮ কোটি টাকা। ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে ঋণ মঞ্জুরী ও বিতরণ হয়েছে যথাক্রমে ৫৪.৬৮ কোটি ও ৪৩.২৩ কোটি টাকা এবং ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে পূঞ্জিভূত মঞ্জুরীকৃত টাকার পরিমাণ ৩২০৫.৬৮ কোটি এবং বিতরনের পরিমান ২৮৪৪.৮০ কোটি টাকা ।

ঋণ শ্রেণী বিন্যাস ও সঞ্চিতি সংরক্ষণঃ এ যাবত্‍ প্রদানকৃত ঋণ ও অগ্রিমের মধ্যে ৫১৫.২৯ কোটি টাকা শ্রেণীকৃত ও ঝুকিপূর্ণ হিসাবে বিবেচিত হলেও আলোচ্য অর্থ বছরে (সূত্র তারিখ-৩০-০৬-২০০৬ তা পূর্ববর্তী বছরের (৩০-০৬-২০০৫) তুলনায় হ্রাস পেয়ে ১৯.৬২% এ দাড়িয়েছে । আলোচ্য বছরে পূর্ববর্তী বছর সমূহের কু-ঋণ সঞ্চিতি খাতে প্রভিশন ঘাটতি ছিল না। অধিকন্তু পরবর্তী বছরে কু-ঋণ সঞ্চিতি অতিরিক্ত আলোচ্য অর্থ বছরে কমিয়ে তা নীট মুনাফার সাথে সমন্বয় কর হয়েছে। ১৯৯৯-২০০০ সাল থেকে ঋণ শ্রেনীবিন্যাস কার্যক্রম চালু হওয়ার পর মাত্র তিন বছরের মধ্যে-ই প্রভিশন ঘাটতি কাটিয়ে উঠে প্রকৃত মুনাফা অর্জনসহ শ্রেণীকৃত ঋণের হার ১৯.৬২% এ নামিয়ে এনে কর্পোরেশন একটি বিরল সাফল্য অর্জন করেছে। এ অর্জিত সাফল্যকে সুসংহত করে অবস্থার আরো উন্নয়নের জন্য চলমান প্রচেষ্টা আরো জোরদার করা হচ্ছে । অ-শ্রেণীকৃত ঋণ যাতে শ্রেণীকৃত না হয় তার পাশাপাশি শ্রেণীভূক্ত ঋণ অর্থাত্‍ নিম্নমান ঋণ যেন সন্দেহজনক ঋনে এবং সন্দেহজনক ঋণ যেন মন্দ ঋণে পরিনত হতে না পারে সেদিকেও যত্নশীল ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহনের প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে।